![]() |
What is Antivirus Software |
এন্টিভাইরাস কি? এন্টিভাইরাস সফটওয়্যারের উদাহরন ২০২৫: আজকের ডিজিটাল যুগে কম্পিউটার এবং মোবাইল ডিভাইস এর মাধ্যমে
আমরা আমাদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যেমন ছবি, ভিডিও, ডকুমেন্ট ইত্যাদি
সংরক্ষণ করে রাখি।
কিন্তু অনেক হ্যাকার আছে যারা ভাইরাস, ম্যালওয়্যার,
স্পামেওয়ার ইত্যাদির মাধ্যমে আমাদের তথ্য চুরি করে অনেক রকম সমস্যার সৃষ্টি করে।
এই পরিস্থিতিতে, অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার আমাদের ডিভাইসগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা পালন করে। অ্যান্টিভাইরাস এমন একটি প্রোগ্রাম যা আপনার কম্পিউটারে লুকিয়ে
থাকা ভাইরাস এবং ম্যালওয়্যার খুঁজে বের করে এবং সেগুলো মুছে ফেলে।
আজ এই লেখাতে আপনাদের এন্টিভাইরাস সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য
যেমন এন্টিভাইরাস কি? এন্টিভাইরাসসফওয়্যার কি?এন্টিভাইরাস এন্টিভাইরাস কত প্রকার? android এর জন্য সেরা এন্টিভাইরাস কি,
কম্পিউটার জন্য এন্টিভাইরাস কোন গুলি ইত্যাদি। আশাকরি এই পোস্ট থেকে এন্টিভাইরাস থেকে অনেক কিছু জানতে পারবেন।
এন্টিভাইরাস কি?এন্টিভাইরাস কত প্রকার ও কি
কি? – What is Antivirus Software in Bengali
এন্টিভাইরাস হল এমন একটি সফটওয়্যার বা প্রোগ্রাম যা
কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল বা অন্য ডিভাইসকে
ভাইরাস, ম্যালওয়্যার, স্পাইওয়্যার এবং অন্যান্য
ক্ষতিকারক প্রোগ্রামের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
এটি Computer
এ থাকা ফাইল , ফোল্ডার এবং প্রোগ্রাম
ইত্যাদি গুলিকে স্ক্যান করে এবং যদি কোনো ভাইরাস বা কোনো ক্ষতিকারক উপাদান খুঁজে
পায় তাহলে সেটি মুছে ফেলে বা ব্লক করে দেয়।
সহজভাবে বলতে গেলে, অ্যান্টিভাইরাস হলো আপনার
ডিভাইসের জন্য একটি "সুরক্ষা গার্ড," যা ভাইরাস থেকে আপনার
ডিভাইসকে নিরাপদ রাখে যাতে কম্পিউটার ভালো ভাবে কাজ করে।
এন্টিভাইরাসকে মুখ্য তিন ভাগে ভাগ করা হয়
1. স্ট্যান্ডঅ্যালোন অ্যান্টিভাইরাস
2. ইন্টারনেট সিকিউরিটি অ্যান্টিভাইরাস
3. টোটাল সিকিউরিটি অ্যান্টিভাইরাস
তবে, নির্দিষ্ট কাজের দিক দিয়ে
ভাইরাসের ১০টি ভাগ আছে যেমন,
1. স্পাইওয়্যার স্ক্যানার
2. মেশিন লার্নিং এন্টিভাইরাস
3. ডাটাবেস এন্টিভাইরাস
4. ম্যালওয়্যার রিমুভার
5. ইমেইল এন্টিভাইরাস
6. রিয়েল-টাইম এন্টিভাইরাস
7. অন-ডিমান্ড এন্টিভাইরাস
8. হিউরিস্টিক এন্টিভাইরাস
9. ইন্টারনেট সিকিউরিটি স্যুট
10. পোর্টেবল এন্টিভাইরাস
আপনার প্রয়োজন এবং
ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে আপনি কোনো এন্টিভাইরাস সফ্টওয়্যার বেছে নিতে পারেন।
উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি ইমেইল ব্যবহার করেন, তাহলে ইমেইল এন্টিভাইরাস
প্রয়োজনীয়। আবার, নিয়মিত স্ক্যানের জন্য
রিয়েল-টাইম এন্টিভাইরাস ভালো।
এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার কি কি পদ্ধতিতে ভাইরাস শনাক্ত করে? How Antivirus Detect Virus in Bengali
এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস সনাক্তকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করে। নিচে ছয়টি সাধারণ পদ্ধতি আপনাদের বলি,
1. সিগনেচার-ভিত্তিক সনাক্তকরণ (Signature-Based Detection)
এই পদ্ধতিতে অ্যান্টিভাইরাস
এমন একটি প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যা ভাইরাসের "সিগনেচার" বা আলাদা
চিহ্ন শনাক্ত করে।
সাধারণত,প্রতিটি ভাইরাসের নিজস্ব
একটি কোড বা ডেটা থাকে, যা তাকে সমস্ত ভাইরাস থেকে
আলাদা করে চিনতে সাহায্য করে।
অ্যান্টিভাইরাস
সফটওয়্যারগুলো এই চিহ্নগুলো আগে থেকেই সংরক্ষিত করে রাখে।
যখন কোনো ফাইল বা ফোল্ডার ভাইরাসের জন্য স্ক্যান করা
হয়, তখন অ্যান্টিভাইরাস এই
চিহ্নের সাথে মেলানোর চেষ্টা করে।
যদি কোনো ফাইলের চিহ্ন
ভাইরাসের চিহ্নের সাথে মিলে যায়, তাহলে সেটিকে ক্ষতিকারক বলে ধরা হয় এবং তাকে
ব্লক করে দেয় না মুছে ফেলে।
এটি একটি সহজ এবং কার্যকর উপায়, তবে এটি কেবল পূর্বে চিহ্নিত ভাইরাস শনাক্ত করতে পারে। নতুন ভাইরাসের জন্য এটি ততটা কার্যকর নয়।
2. Heuristic-Based Detection
হিউরিস্টিক-ভিত্তিক সনাক্তকরণ
হিউরিস্টিক-ভিত্তিক সনাক্তকরণ এমন একটি
পদ্ধতি, যেখানে অ্যান্টিভাইরাস নতুন বা পরিবর্তিত
ভাইরাস খুঁজে বের করতে বিশেষ অ্যালগরিদম ব্যবহার করে।
এই পদ্ধতিতে ভাইরাসের আচরণ বা কার্যকলাপ
দেখে বুঝতে চেষ্টা করে, যে সেটা ক্ষতিকারক কি না।
আগে থেকে পরিচিত না হলেও, যদি কোনো ফাইলের আচরণ ভাইরাসের মতো মনে
হয়, তবে এটি সেটিকে সনাক্ত করতে পারে।
এই পদ্ধতিতে কোনো পুরোনো ভাইরাসের নতুন
সংস্করণও হলেও তা চিনতে পারে।
আগে দেখা যায়নি এমন ম্যালওয়্যারও কে
জানতে পারে।
তবে, কখনো কখনো নিরাপদ প্রোগ্রামকেও ভুল করে ভাইরাস হিসেবে শনাক্ত করে নেয় একে False Positive বলে।
বিহেভিয়ার-ভিত্তিক
সনাক্তকরণ এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে অ্যান্টিভাইরাস
কমপিউটারের মধ্যে বা
প্রোগ্রামের
আচরণ বা কার্যকলাপ দেখে বুঝতে পারে যে সেটি ক্ষতিকারক কি না।
যদি কোনো প্রোগ্রাম
অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক মত কাজ করে, যেমন:
অনেক ফাইল একসাথে মুছে ফেলা,
নিজ থেকে কোনো কী-বোর্ডে কী
চাপা হচ্ছে কি না,
অন্য প্রোগ্রামের সেটিং
পরিবর্তন হওয়া ইত্যাদি।
তখন অ্যান্টিভাইরাস সেটিকে
ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে।
এতে নতুন বা অপরিচিত ভাইরাসও এই পদ্ধতিতে ধরা পড়তে পারে।
বর্তমানে প্রচুর পরিমাণে
নতুন ম্যালওয়্যার তৈরি হচ্ছে, যা সবগুলোকে দ্রুত চিহ্নিত করা খুব কঠিন। তাই
এই সমস্যার সমাধানে জন্য অ্যান্টিভাইরাস কোম্পানিগুলো ক্লাউড বিশ্লেষণ পদ্ধতি
ব্যবহার করে।
এক্ষেত্রে,
1. যখন আপনার কম্পিউটার বা ফোনে
সন্দেহজনক কোনো ফাইল পাওয়া যায়, তখন অ্যান্টিভাইরাস সেটিকে কোম্পানির সার্ভারে
বা ক্লাউডে পাঠায়।
2. সেই সার্ভারে থাকা শক্তিশালী
সফটওয়্যার এবং বিশেষজ্ঞরা ফাইলটি বিশ্লেষণ করে।
3. যদি ফাইলটি ক্ষতিকারক মনে হয়, তখন তারা সেই ভাইরাসের জন্য একটি নতুন সিগনেচার তৈরি
করে।
4. এই সিগনেচারটি সব ডিভাইসে
পাঠানো হয়, যাতে ভবিষ্যতে এই ভাইরাস
সহজে চিহ্নিত করা যায়।
এতে বিশাল পরিমাণ ডেটা দ্রুত
বিশ্লেষণ করা যায় এবং কম্পিউটারের রিসোর্স কম ব্যবহার হয়, কারণ ফাইল বিশ্লেষণের কাজ
ক্লাউডে করা হয়।
এতে নতুন ম্যালওয়্যার দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব।তবে ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়া এই পদ্ধতি কাজ করে না।
স্যান্ডবক্স বিশ্লেষণ হলো
এমন একটি পদ্ধতি যেখানে সন্দেহজনক কোনো ফাইল বা প্রোগ্রামকে প্রথমে একটি নিরাপদ ও
আলাদা পরিবেশে বা আলাদা জায়গায় পরীক্ষা করা হয়।
1. যখন কোনো ফাইল সিস্টেমে
ঢুকতে চায়, তখন সেটিকে সরাসরি চালানোর
পরিবর্তে স্যান্ডবক্স নামে একটি ভার্চুয়াল জায়গায় , যাকে নকল পরিবেশেও বলা হয় সেখানে চালানো হয়।
2. সেখানে ফাইলটির আচরণ দেখা
হয়, যেমন:
এটি কী ধরনের কাজ করছে।
এটি সিস্টেমের কোনো ক্ষতি
করতে চাচ্ছে কি না।
কাজের ধরন কেমন ইত্যাদি।
3. যদি ফাইলটি নিরাপদ হয়, তখন সেটিকে আসল সিস্টেমে
ঢুকতে দেওয়া হয়।
4. যদি ক্ষতিকারক হয়, তাহলে সেটিকে ব্লক করা হয়।
এরফলে, আসল সিস্টেম সুরক্ষিত থাকে, কারণ ক্ষতিকারক ফাইল
স্যান্ডবক্সে পরীক্ষা করা হয়।
নতুন বা অজানা ম্যালওয়্যার
চিহ্নিত করা হয়।
তবে, এটি ফাইল বিশ্লেষণ করতে কিছুটা সময় নিতে পারে এবং স্যান্ডবক্স চালানোর জন্য বাড়তি রিসোর্স প্রয়োজন হয়।
6. Host Intrusion Prevention System (HIPS)
হোস্ট ইনট্রুশন প্রিভেনশন সিস্টেম পদ্ধতি
HIPS এমন একটি পদ্ধতি, যা আপনার সিস্টেমের প্রতিটি কাজ বা কার্যকলাপকে
খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে।
1. একটি কম্পিউটার বা কোনো
সিস্টেমে যা কিছু চলছে,
HIPS তা
মনোযোগ দিয়ে দেখে।
2. যদি কোনো সন্দেহজনক কাজ বা
আচরণ দেখতে পেলে যেমন, ফাইল বদলানো, সিস্টেম সেটিং পরিবর্তন মত
ইত্যাদি কোনো অস্বাভাবিক কিছু হলে এটি সঙ্গে সঙ্গে আমাদেরকে জানায়।
3. তারপর আমাদেরকে সিদ্ধান্ত
নিতে বলে যে,
কাজটি চালিয়ে যাবার অনুমতি
দেবেন, নাকি ব্লক করবেন।
এই নিয়মে, সিস্টেম সবসময় সতর্ক থাকে।
নতুন বা অজানা হুমকিও সহজে ধরা পড়ে এবং আমাদের ইচ্ছামতো কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।
তবে, খুব বেশি নোটিফিকেশন দিলে
আমাদের বিরক্ত লাগতে পারে এবং ভুল সিদ্ধান্ত নিলে সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হতে
পারে।
প্রথম অ্যান্টিভাইরাসের নাম কি?
প্রথম অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রামের নাম হলো "Reaper Antivirus"। এটি ১৯৭০-এর দশকে তৈরি করা হয়েছিল। যা কম্পিউটারের মধ্যে থাকা ভাইরাসকে খুঁজে মুছে ফেলে।
১০টি অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারের কাজ
১০টি অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারের কাজ গুলি হলো -
1. ভাইরাস অপসারণ: সিস্টেম থেকে ভাইরাস, ম্যালওয়্যার, এবং স্পাইওয়্যার মুছে ফেলা।
2. সুরক্ষা প্রদান: অনলাইন প্রতারণা এবং হ্যাকিং থেকে রক্ষা করা।
3. রিয়েল-টাইম প্রটেকশন: ইন্টারনেট ব্রাউজ করার সময় তাৎক্ষণিক সুরক্ষা।
4. ফায়ারওয়াল সুরক্ষা: অননুমোদিত নেটওয়ার্ক অ্যাক্সেস বন্ধ করা।
5. ইমেইল সুরক্ষা: সন্দেহজনক ইমেইল এবং সংযুক্তি ব্লক করা।
6. পাসওয়ার্ড সুরক্ষা: পাসওয়ার্ড ম্যানেজার এবং নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য প্রদান।
7. ডিভাইস স্ক্যান: কম্পিউটার এবং মোবাইল পুরোপুরি স্ক্যান করা।
8. ডেটা ব্যাকআপ: গুরুত্বপূর্ণ ডেটার নিরাপদ ব্যাকআপ রাখা।
9. নিরাপদ ব্রাউজিং: ফিশিং ওয়েবসাইট থেকে সুরক্ষা।
10. পিসি পারফরম্যান্স উন্নতি: অপ্রয়োজনীয় ফাইল মুছে সিস্টেম দ্রুত করা ।
মোবাইলের জন্য সেরা ১০টি এন্টিভাইরাস অ্যাপস ২০২৫ - Top Antivirus Apps for
Android 2025
২০২৫ সালে জনপ্রিয় কিছু অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপ গুলির মধ্যে হলো
![]() |
Top Antivirus Apps |
1. Bitdefender Mobile Security:
2. Norton Mobile Security:
3. AVG Antivirus:
4. ESET Mobile Security:
5. Avast Antivirus:
6. McAfee Mobile Security:
7. Kaspersky Mobile Antivirus:
8. Trend Micro Mobile Security:
9. Avira Antivirus Security:
10. TotalAV Antivirus
1. বিটডিফেন্ডার মোবাইল সিকিউরিটি (Bitdefender
Mobile Security): এটি দ্রুত
এবং হালকা, শক্তিশালী ম্যালওয়্যার স্ক্যানার, ভিপিএন, এবং অ্যাপ আচরণ পর্যবেক্ষণের সুবিধা দেয়।
2. নর্টন মোবাইল সিকিউরিটি (Norton Mobile Security): রিয়েল-টাইম স্ক্যান, ফিশিং প্রতিরোধ, এবং ব্যক্তিগত তথ্য চুরির সুরক্ষা দেয়।
3. ক্যাসপারস্কি মোবাইল অ্যান্টিভাইরাস Kaspersky Mobile Antivirus(): ম্যালওয়্যার শনাক্তকরণ, অ্যাপ লক, এবং অ্যান্টি-থেফট ফিচার রয়েছে।
4. ম্যাকাফি মোবাইল সিকিউরিটি (McAfee Mobile Security): ম্যালওয়্যার স্ক্যান, চুরি প্রতিরোধ এবং পারফরম্যান্স অপ্টিমাইজেশনের জন্য উপযোগী।
5. অ্যাভাস্ট অ্যান্টিভাইরাস (Avast Antivirus): ফায়ারওয়াল, ভিপিএন এবং প্রাইভেসি ম্যানেজমেন্টের জন্য
জনপ্রিয়।
6. এভিজি অ্যান্টিভাইরাস (AVG
Antivirus): ম্যালওয়্যার প্রতিরোধ এবং অ্যাপ স্ক্যান করার সুবিধা রয়েছে।
7. ইসেট মোবাইল সিকিউরিটি (ESET
Mobile Security): রিয়েল-টাইম স্ক্যান এবং ফিশিং প্রতিরোধের সুবিধা দেয়।
8. ট্রেন্ড মাইক্রো মোবাইল সিকিউরিটি (Trend Micro Mobile Security): এআই-ভিত্তিক ওয়েব প্রটেকশন এবং শক্তিশালী
সুরক্ষার জন্য পরিচিত।
9. আভিরা অ্যান্টিভাইরাস সিকিউরিটি (Avira Antivirus Security): হালকা ওজনের, ভিপিএন এবং গোপনীয়তা নজরদারি ফিচার সহ।
10. টোটালএভি অ্যান্টিভাইরাস (TotalAV Antivirus): ম্যালওয়্যার স্ক্যান, ডিভাইস অপ্টিমাইজেশন এবং ভিপিএন সুবিধা দেয়।
এইসব অ্যাপ আপনার ফোনকে
ভাইরাস ও সাইবার ঝুঁকির হাত থেকে বাঁচাতে সহায়তা করবে।
২০২৫ সালে সবচেয়ে ভালো কম্পিউটার এন্টিভাইরাস কোনটি? - Best Antivirus for PC in 2025
২০২৫ সালে সবচেয়ে ভালো
কম্পিউটার এন্টিভাইরাস এর তালিকা দিলাম যা কার্যকারিতা, বৈশিষ্ট্য, এবং ব্যবহারকারীদের রিভিউয়ের
ভিত্তিতে বাছাই করা। সেগুলি হলো
1.Norton 360
2. Avast Premium Security
3. McAfee Total Protection
4. Kaspersky Internet
Security
5. Trend Micro Antivirus+
6. Bitdefender Total
Security
7. Surfshark Antivirus
8. TotalAV
9. ESET Internet Security
10. Sophos Home Premium
অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারের
উদ্ভাবক কে ?
অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারের
উদ্ভাবক হিসেবে সর্ব প্রথম
ফ্রেড
কোহেন (Fred
Cohen) এর
নাম ধরা হয়।
১৯৮৩ সালে ফ্রেড কোহেন প্রথম
"কম্পিউটার ভাইরাস" শব্দটি ব্যবহার করেন এবং ভাইরাসের জন্য প্রতিরোধমূলক
ব্যবস্থা তৈরির ক্ষেত্রে অ্যান্টিভাইরাস জন্য ধারণা দেন।
তার গবেষণার মাধ্যমে, অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারের
ভিত্তি স্থাপিত হয়।
তবে, প্রথম কার্যকরী
অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার তৈরি করেন জন ম্যাকাফি (John McAfee)। তিনি ১৯৮৭ সালে McAfee নামক একটি কোম্পানি
প্রতিষ্ঠা করেন এবং অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার তৈরি করেন এবং আজও সেই কোম্পানী
নামে জনপ্রিয় অ্যান্টিভাইরাস, অ্যাপস আছে।
অ্যান্টিভাইরাস কী কাজ করে? বা কেনো এন্টিভাইরাস ব্যাবহার করা উচিৎ বা অ্যান্টিভাইরাস ব্যাবহারের সুবিধা কি?
অ্যান্টিভাইরাস কী কাজ করে? বা কেনো এন্টিভাইরাস ব্যাবহার করা উচিৎ এর উত্তরে এটা বলতে পারি যে, অ্যান্টিভাইরাস এমন একটি সফটওয়্যার যা আপনার কম্পিউটার বা মোবাইল ডিভাইসকে ভাইরাস, ম্যালওয়্যার, স্পাইওয়্যার, এবং অন্যান্য ক্ষতিকারক সফটওয়্যার থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
এন্টিভাইরাস কি কাজে
ব্যাবহার হয় তা নিচে ব্যাখ্যা করে জানাই,
1. ভাইরাস শনাক্ত করা: অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার পরিচিত ভাইরাস এবং
ম্যালওয়্যারের সিগনেচার (বিশেষ চিহ্ন) দিয়ে স্ক্যান করে এবং ক্ষতিকারক ফাইল বা
প্রোগ্রাম সনাক্ত করে তাকে মুছে ফেলে বা ব্লক করে দেয়।
2. রিয়েল-টাইম প্রটেকশন: এটি আপনার ডিভাইসের প্রতিটি কার্যকলাপকে বিশ্লেষণ করে
দেখে এবং কোনো সন্দেহজনক আচরণ দেখা দিলে আমাদের
সতর্ক করে দেয়।
3. ফাইল পরিষ্কার করা: যদি কোনো ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার সনাক্ত হয়, অ্যান্টিভাইরাস তা মুছে ফেলতে বা কোয়ারেন্টাইনে রাখতে সাহায্য করে।
4. আপডেট করা: অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার নতুন ভাইরাস এবং ম্যালওয়্যার থেকে রক্ষা পেতে নিয়মিত আপডেট হয় থেকে।
এইভাবে, অ্যান্টিভাইরাস আমাদের কম্পিউটার বা মোবাইলের সুরক্ষিত করে রাখে এবং সেগুলোকে ক্ষতিকারক সফটওয়্যার থেকে রক্ষা করে।
এন্টিভাইরাস কি সিস্টেম
সফটওয়্যার?
না, অ্যান্টিভাইরাস একটি সিস্টেম
সফটওয়্যার নয়। এটি একটি অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার।
অ্যান্টিভাইরাস হলো এমন একটি
সফটওয়্যার যা কম্পিউটার বা মোবাইল ডিভাইসে ভাইরাস, ম্যালওয়্যার, স্পাইওয়্যার ইত্যাদি ক্ষতিকারক প্রোগ্রাম থেকে
রক্ষা করার জন্য তৈরি করা হয়। এটি সিস্টেম সফটওয়্যারের কাজ করে না, কারণ সিস্টেম সফটওয়্যার
(যেমন: অপারেটিং সিস্টেম) কম্পিউটারের বেসিক কাজ গুলো করে থাকে।
অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার নির্দিষ্ট কাজ গুলি করে, যেমন ফাইল স্ক্যানিং, ভাইরাস সনাক্তকরণ এবং মুছে ফেলা ইত্যাদি, কিন্তু এটি সিস্টেম সফ্টওয়্যার মত কাজ করে না।
১০টি ভাইরাস এর নাম
1. ILOVEYOU
ভাইরাস:-
এই ভাইরাসটি ইমেইলে "ILOVEYOU" শিরোনামে ছড়ায় এবং ফাইলগুলো নষ্ট করে এবং
ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে।
2. MyDoom
এই ধরনের ভাইরাস অনেক গুলো স্প্যাম ইমেইল
পাঠিয়ে ইমেইল সিস্টেমকে ধীর করে দেয় ফলে
হ্যাকারদের কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ করতে সুবিধা
হয়।
3. Conficker
এই ভাইরাসটি Windows
কম্পিউটারে
প্রবেশ করে এবং সেগুলোকে "জোম্বি" বানিয়ে আরও ভাইরাস ছড়াতে সাহায্য করে।
4. WannaCry
(র্যানসমওয়্যার)
এই ভাইরাসটি আপনার ফাইলগুলো লক করে দেয় এবং
আনলক করার জন্য টাকা দাবি করে।
5. ট্রোজান হর্স
এই ভাইরাসটি নিরাপদ প্রোগ্রামের মতো মনে হয়, কিন্তু আসলে এটি কম্পিউটার ক্ষতিগ্রস্ত করে।
6. Sasser
Windows সিস্টেমের দুর্বলতা ব্যবহার করে ভাইরাসটি ছড়ায় এবং কম্পিউটার ক্র্যাশ করে দেয়।
7. Klez
এই ভাইরাসটি ইমেইল অ্যাটাচমেন্টের মাধ্যমে
ছড়ায়। এটি ফাইল মুছে ফেলে এবং অন্যদের কাছে ভাইরাস ছড়াতে সাহায্য করে।
8. Blaster
একটি ভাইরাস যা Windows
সিস্টেমের
দুর্বলতা ব্যবহার করে। এটি কম্পিউটার ধীর করে দেয় এবং ক্র্যাশ করে।
9. Zeus
একটি ট্রোজান ভাইরাস যা ব্যাংকিং তথ্য চুরি
করতে ডিজাইন করা হয়েছিল।
10. Storm
Worm
এই ভাইরাসটি ইমেইলে ছড়ায় এবং কম্পিউটারকে বটনেট বানিয়ে স্প্যাম ইমেইল পাঠাতে ব্যবহার করে।
১০টি এন্টিভাইরাসের নাম
1. McAfee
McAfee একটি জনপ্রিয় অ্যান্টিভাইরাস যা ভাইরাস এবং ম্যালওয়্যার থেকে সুরক্ষা দেয়। এটি
ব্যক্তিগত তথ্য রক্ষা করতে সাহায্য করে।
2. Norton
Antivirus
Norton ভাইরাস, ম্যালওয়্যার এবং স্পাইওয়্যার থেকে রক্ষা করে এবং ক্ষতিকারক ওয়েবসাইট ব্লক করে।
3. Kaspersky
Kaspersky শক্তিশালী অ্যান্টিভাইরাস, যা ভাইরাস, ট্রোজান এবং র্যানসমওয়্যার থেকে সুরক্ষা দেয়।
4. Bitdefender
Bitdefender উন্নত সুরক্ষা দেয় এবং অনলাইন হুমকি থেকে রক্ষা করে।
5. Avast
Avast একটি ফ্রি অ্যান্টিভাইরাস যা আপনার ডিভাইসকে ভাইরাস এবং ম্যালওয়্যার থেকে রক্ষা
করে।
6. AVG
AVG ফ্রি এবং পেইড সুরক্ষা দেয়, যা ভাইরাস এবং ম্যালওয়্যার থেকে সুরক্ষা প্রদান
করে।
7. Windows
Defender
Windows Defender হল একটি অন্তর্নির্মিত অ্যান্টিভাইরাস, যা Windows ব্যবহারকারীদের জন্য ফ্রি সুরক্ষা দেয়।
8. ESET
NOD32
ESET NOD32 ভাইরাস দ্রুত শনাক্ত করে এবং সুরক্ষা প্রদান করে।
9. Panda
Security
Panda রিয়েল-টাইম মনিটরিং এবং ক্লাউড স্ক্যানিং সুবিধা দেয়, যা র্যানসমওয়্যার থেকে রক্ষা করে।
10. Sophos
Sophos একটি শক্তিশালী অ্যান্টিভাইরাস, যা ওয়েব ফিল্টারিং এবং ডিভাইস কন্ট্রোলের মাধ্যমে সুরক্ষা প্রদান করে।
কম্পিউটার এন্টিভাইরাস কাকে বলে? - What is Computer Antivirus in Bengali
কম্পিউটার অ্যান্টিভাইরাস এক ধরনের সফটওয়্যার যা কম্পিউটারকে ভাইরাস, ম্যালওয়্যার, বা অন্য কোনো ক্ষতিকারক প্রগ্রাম থেকে রক্ষা করে।
কম্পিউটার অ্যান্টিভাইরাস আপনার কম্পিউটারকে স্ক্যান করে এবং যত ভাইরাস বা ক্ষতিকারক সফটওয়্যার থাকবে সবকে সরিয়ে দেবে অথবা ব্লক করে রেখে দেবে।
এন্টিভাইরাস কি ব্যবহার করে সংক্রমিত অবস্থান থেকে আসল প্রোগ্রাম ঠিক করে??
এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার সংক্রমিত প্রোগ্রামগুলোকে বেশ কিছু ধাপে ঠিক করে -
ভাইরাস শনাক্তকরণ:
এন্টিভাইরাস প্রথমে কম্পিউটারে থাকা ভাইরাসগুলো শনাক্ত করে।
সংক্রমিত ফাইল পরীক্ষা:
শনাক্ত করা ভাইরাসের সাথে সংক্রমিত ফাইলগুলো পরীক্ষা করে।
ভাইরাস অপসারণ: সংক্রমিত
ফাইল থেকে ভাইরাস অপসারণ করে। এটি ভাইরাসের কোড মুছে ফেলে বা আলাদা করে রাখে।
ফাইল পুনরুদ্ধার: সংক্রমিত
ফাইলগুলোকে আসল অবস্থায় ফিরিয়ে আনে। এন্টিভাইরাস সংক্রমিত ফাইলের আসল কোড
ফিরিয়ে আনে।
সতর্কতা ও প্রতিরোধ: ভবিষ্যতে ভাইরাস আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে সতর্কতা অবলম্বন করে এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে।
এইভাবে এন্টিভাইরাস সংক্রমিত প্রোগ্রামগুলোকে ঠিক করে এবং আমাদের কম্পিউটারকে সুরক্ষিত রাখে।
২০২৫ সালের সেরা ফ্রি এন্টিভাইরাস - Top Free Antivirus 2025 in Bengali
আজকে আপনাদের ২০২৫ সালের ৫টি জনপ্রিয় ফ্রি অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপের নাম এবং তাদের বৈশিষ্ট দিলাম-
১. Avast Free Antivirus
২. AVG AntiVirus Free
৩. Avira Free Security
৪. Microsoft Defender
Antivirus (Windows Defender)
৫. Kaspersky Security Cloud Free
এই ফ্রি অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপগুলি আপনার ডিভাইসকে অনলাইন ক্ষতিকারক সফটওয়্যার থেকে সুরক্ষিত রাখে এবং অতিরিক্ত ফিচার সরবরাহ করে।
এন্টিভাইরাস কি ধরনের সফটওয়্যার?
এন্টিভাইরাস হলো একটি ইউটিলিটি সফ্টওয়্যার, অর্থাৎ একটি সিকিউরিটি সফটওয়্যার।
ইউটিলিটি সফটওয়্যার এর কাজ হলো কম্পিউটার, মোবাইল, বা অন্য ডিভাইসের ভাইরাস, ম্যালওয়্যার, স্পাইওয়্যার, ট্রোজান মত ইত্যাদি ক্ষতিকর প্রোগ্রাম শনাক্ত করে তাকে মুছে ফেলে কম্পিউটারকে সুরক্ষা দেওয়া।
ভারতে তৈরি অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার গুলি কি কি?
ভারতে তৈরি কিছু জনপ্রিয় অ্যান্টিভাইরাস গুলি হলো -
1. Quick Heal (কুইক হিল)
2. K7 Total Security (কে ৭ টোটাল সিকিউরিটি)
3. NPAV (Net Protector
Antivirus (এনপিএভি
- নেট প্রোটেক্টর অ্যান্টিভাইরাস)
4. Seqrite (সিক্রাইট)
5. Guardian Antivirus (গার্ডিয়ান অ্যান্টিভাইরাস)
6. TAC Security (টিএসি সিকিউরিটি)
১০ টি ভাইরাসের নাম কি? - 10 Virus Names List
১. ওয়ার্ম (Worm):
ব্যবহারকারীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই এক কম্পিউটার থেকে আরেকটিতে ছড়ায়।
২. আইলাভইউ (ILOVEYOU):
ইমেলের মাধ্যমে ছড়ানো বিপজ্জনক ভাইরাস, যা ২০০০ সালে বড় ক্ষতি করেছিল।
৩. এসকিউএল স্ল্যামার (SQL Slammer):
ইন্টারনেট ধীর করে দেয় এবং সার্ভার আক্রমণ করে।
৪. স্টাক্সনেট (Stuxnet):
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা আক্রমণের জন্য তৈরি বিশেষ ওয়ার্ম।
৫. ক্রিপ্টোলকার (CryptoLocker):
ফাইল লক করে মুক্তিপণ দাবি করে।
৬. টিনবা (Tinba):
আর্থিক অ্যাকাউন্ট থেকে তথ্য চুরি করার জন্য ডিজাইন করা।
৭. ওয়েলচিয়া (Welchia):
ক্ষতিকর ভাইরাস মুছে ফেলে, কিন্তু নেটওয়ার্ক ধীর করে।
৮. শ্লেয়ার (Shlayer):
ভুয়া অ্যাপ ও বিজ্ঞাপন ছড়ায়।
উপসংহারঃ
অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করা আজকের দিনে অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। এটি শুধু আপনার কম্পিউটার এবং মোবাইল ডিভাইসকে ভাইরাস এবং ম্যালওয়্যারের হাত থেকে রক্ষা করে না, বরং আপনার গুরুত্বপূর্ণ ডেটার সুরক্ষাও নিশ্চিত করে। তাই, ভালো মানের একটি অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার বেছে নিন এবং সেটি নিয়মিত আপডেট করুন, যাতে আপনার সিস্টেম সুরক্ষিত ও সচল থাকে। নিরাপদ থাকুন এবং আপনার ডিজিটাল জীবন সুরক্ষিত রাখুন।